পেকুয়া প্রতিনিধি;
কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার প্রত্যন্ত টইটং এলাকায় শিক্ষার প্রসার ও আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থা সম্প্রসারণে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করল টইটং আলহেরা মডেল একাডেমির স্থায়ী ক্যাম্পাস। শনিবার (২৮ মার্চ) সকালে আয়োজিত এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে এ ক্যাম্পাসের উদ্বোধন করা হয়।
অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে ফিতা কেটে ক্যাম্পাসটির উদ্বোধন করেন পটিয়া মনসা ইসলামিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসার সাবেক অধ্যক্ষ মুহাম্মদুল্লাহ ফিরোজ। এ সময় তিনি বলেন, “গ্রামীণ এলাকায় মানসম্মত শিক্ষা বিস্তারে এমন উদ্যোগ সময়োপযোগী। শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিতে হলে অবকাঠামোগত উন্নয়নের পাশাপাশি নৈতিক শিক্ষার প্রতিও গুরুত্ব দিতে হবে।”
আয়োজক সূত্রে জানা যায়, নতুন এই স্থায়ী ক্যাম্পাসে ধীরে ধীরে আধুনিক শ্রেণিকক্ষ, ডিজিটাল শিক্ষা উপকরণ, ক্রীড়া সুবিধা এবং সহশিক্ষা কার্যক্রম সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির লক্ষ্য—একই ছাদের নিচে ধর্মীয় ও আধুনিক শিক্ষার সমন্বয়ে একটি আদর্শ শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলা।
টইটং রয়েল ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ও একাডেমি পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি মুহাম্মদ আব্দুর রশিদের সভাপতিত্বে এবং সহ-সভাপতি মাওলানা মুহাম্মদ জসিম উদ্দিনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হয়। এতে ২০২৬ শিক্ষাবর্ষের বার্ষিক ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ এবং সরকারি-বেসরকারি বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা প্রদান করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন রাজাখালী এয়ার আলী খান আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. জাহেদ উল্লাহ। প্রধান আলোচক ছিলেন টইটং সোনাইছড়ি পানি ব্যবস্থাপনা সমবায় সমিতি লিমিটেডের চেয়ারম্যান মুহাম্মদ নুরুল কবির।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষা, ধর্মীয় ও চিকিৎসা খাতের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা, তাদের মধ্যে—
বান্দরবান পিটিআইয়ের ইন্সট্রাক্টর মুহাম্মদ মাহমুদুল হক, ফাঁশিয়াখালী ইসলামিয়া কামিল মাদ্রাসার প্রভাষক মাওলানা মুহাম্মদ আনছার উল্লাহ, রাজাখালী এয়ার আলী খান আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক মাওলানা মুহাম্মদ ফরিদুল মোস্তাফা ছিদ্দিকী, টইটং রয়েল ফাউন্ডেশনের সেক্রেটারি জিয়াউল হক শফিকীসহ বিভিন্ন শিক্ষা ও স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা।
এছাড়া ৪৮তম বিসিএস (স্বাস্থ্য) ক্যাডারে উত্তীর্ণ হওয়ায় পেকুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিক্যাল অফিসার ডা. মো. তাওহীদুল ইসলামকে সংবর্ধনা জানানো হয়, যা অনুষ্ঠানে বিশেষ মাত্রা যোগ করে।
স্থানীয় অভিভাবক ও সচেতন মহল মনে করছেন, এ ধরনের একটি আধুনিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠার ফলে টইটংসহ আশপাশের এলাকায় শিক্ষার মান উন্নয়নে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। শিক্ষার্থীদের আর দূরবর্তী এলাকায় যেতে হবে না, ফলে ঝরে পড়ার হারও কমবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।
উল্লেখ্য, কক্সবাজার জেলার অনেক প্রত্যন্ত অঞ্চলে এখনো মানসম্মত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও অবকাঠামোর ঘাটতি রয়েছে। এ অবস্থায় টইটং আলহেরা মডেল একাডেমির স্থায়ী ক্যাম্পাস উদ্বোধন স্থানীয় শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়নে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
শিক্ষাবিদদের মতে, গ্রামীণ পর্যায়ে বেসরকারি উদ্যোগে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠা দেশের সামগ্রিক শিক্ষার মানোন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। বিশেষ করে আধুনিক ও ধর্মীয় শিক্ষার সমন্বিত মডেল শিক্ষার্থীদের নৈতিক ও জ্ঞানভিত্তিক বিকাশে সহায়ক হতে পারে।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে একাডেমির অধ্যক্ষ মুহাম্মদ রিদুয়ানুল হক সমাপনী বক্তব্যে সংশ্লিষ্ট সকলকে ধন্যবাদ জানান এবং প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে সবার সহযোগিতা কামনা করেন।
